এক্ষেত্রে দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার দায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।৷এ অবস্থায় ক্ষুদ্র ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ দাবি জানিয়েছেন ডিএসইর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন এক্সচেঞ্জটির পরিচালক সৈয়দ হাম্মাদুল করিম, স্নেহাশীষ বড়ুয়া, মিনহাজ মান্নান ইমন, রিচার্ড ডি রোজারিও, মো. সাজেদুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার।৷
বৈঠকে ডিএসইর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পুঁজিবাজার উন্নয়নসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। প্রস্তাবগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের পুঁজিবাজারকে আরো কার্যকর, প্রযুক্তিনির্ভর, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যায়ে উন্নীত করা। বৈঠকে উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল রিয়েল টাইম গ্রস সেটলমেন্ট (আরটিজিএস) সুবিধার সময়সীমা বৃদ্ধি, সেটলমেন্ট সাইকেল টি প্লাস টু থেকে টি প্লাস ওয়ানে রূপান্তর কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তা, ডিএসইর বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকে সংরক্ষিত এফডিআর ও এসএনডি হিসাবের অর্থ ধাপে ধাপে নগদায়নের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য নিটা হিসাবসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজীকরণ, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ও বন্ড মার্কেটভিত্তিক পুনর্মূলধনীকরণ ব্যবস্থা, সরকারি সিকিউরিটিজের সেকেন্ডারি মার্কেট উন্নয়ন, সুকুক লেনদেন চালু ও স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য সিআইবি রিপোর্ট অ্যাকসেস সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো।
বৈঠকে দুর্বল পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক (ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি ও এক্সিম ব্যাংক পিএলসি) একীভূত করার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে। প্রতিনিধি দলের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধি দল আশা প্রকাশ করে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে দেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, বাজারে তারল্য ও দক্ষতা উন্নত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আর্থিক বাজার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।